বিদেশি শিল্পীদের বাংলাদেশে পরিবেশনা এবং পাকিস্তানের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী আতিফ আসলামকে ঘিরে চলমান আলোচনা-সমালোচনার প্রেক্ষাপটে নিজের মতামত প্রকাশ করেছেন দেশের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী সোহাগ। তাঁর মতে, শিল্প ও সংস্কৃতির জগতে বিভাজনের পরিবর্তে পারস্পরিক সম্মান এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ই হওয়া উচিত প্রধান বিবেচ্য বিষয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে সোহাগ বলেন, একজন শিল্পীর পরিচয় তাঁর সৃষ্টিশীলতা ও শিল্পকর্মের মধ্যেই নিহিত। তিনি কোন দেশের নাগরিক, সেটি একজন শিল্পীর মূল্যায়নের একমাত্র মানদণ্ড হতে পারে না। কারণ শিল্প মানুষের আবেগ, অনুভূতি ও সংস্কৃতিকে একত্রিত করার একটি সার্বজনীন মাধ্যম।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের শিল্পীরাও নিয়মিত বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কনসার্ট ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এ ধরনের সাংস্কৃতিক বিনিময়কে সাধারণত ইতিবাচকভাবেই দেখা হয়। তাই বাংলাদেশেও বিদেশি শিল্পীদের আগমনকে উন্মুক্ত দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখার আহ্বান জানান তিনি।
সোহাগের ভাষায়, শিল্পের প্রকৃত শক্তি মানুষে মানুষে সংযোগ তৈরি করা। তাই কোনো শিল্পীকে নিয়ে মন্তব্য বা সমালোচনা করার আগে বিষয়টি সম্পর্কে যথাযথ তথ্য জানা এবং পরস্পরের প্রতি সম্মান বজায় রাখা জরুরি।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানের আরও বেশি সাংস্কৃতিক আয়োজন হবে, যেখানে দেশি-বিদেশি শিল্পীরা একই মঞ্চে পারফর্ম করবেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের শিল্পীরাও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নিজেদের শিল্প ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরার আরও বিস্তৃত সুযোগ পাবেন।
সাংস্কৃতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বায়নের এই সময়ে শিল্প ও সংস্কৃতির আদান-প্রদান কেবল বিনোদনের পরিধিই বাড়ায় না, বরং বিভিন্ন দেশের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া, সৌহার্দ্য ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করে। ফলে আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক বিনিময়কে উৎসাহিত করা দেশের সৃজনশীল শিল্পের বিকাশেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
সম্প্রতি সোহাগের এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কেউ তাঁর মতামতের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন, আবার কেউ ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিও তুলে ধরেছেন। তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, ভিন্নমত থাকলেও শিল্প ও সংস্কৃতি নিয়ে আলোচনা হওয়া উচিত শালীন, তথ্যনির্ভর এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ভিত্তিতে।