ঢাকা    শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩
ঢাকা    শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩
দৈনিক বাংলাদেশ সংবাদ

‘রেলমন্ত্রীর ভাই’ পরিচয়টি মিথ্যা, দাবি শিক্ষা কর্মকর্তার



‘রেলমন্ত্রীর ভাই’ পরিচয়টি মিথ্যা, দাবি শিক্ষা কর্মকর্তার

‘৮ বছর দিনাজপুর বোর্ডে থাকা আওয়ামী লীগের রেলমন্ত্রী সুজনের ভাই এবার বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক’ শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনকে ‘মিথ্যা, অসত্য, বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন’ দাবি করেছেন দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের নবনিযুক্ত কলেজ পরিদর্শক মো. মানিক হোসেন। তাঁর দাবি, সাবেক রেলমন্ত্রী ও সাবেক সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলাম সুজনের সঙ্গে তাঁর কোনো পারিবারিক বা আত্মীয়তার সম্পর্ক নেই। এমনকি তাঁর শিক্ষা জীবনের কোনো পর্যায়েও ছাত্রলীগের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা ছিল না।

গত ২৩ সেপ্টেম্বর ‘শিক্ষা সংবাদ ডটকম’-এ প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে মানিক হোসেনকে নূরুল ইসলাম সুজনের আপন চাচাতো ভাই এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, সুজনের সুপারিশে মানিক হোসেন টানা আট বছর দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক পদে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং এবার তিনি বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক পদে পদায়ন পেয়েছেন।

তবে মানিক হোসেন লিখিত প্রতিবাদে এসব তথ্য অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, নূরুল ইসলাম সুজনের সঙ্গে তাঁর কোনো পারিবারিক সম্পর্ক নেই। একই অঞ্চলে বাড়ি হওয়ার কারণে সামাজিকভাবে পরিচয় থাকলেও সেটিকে পারিবারিক আত্মীয়তার সম্পর্ক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। ছাত্রলীগের সঙ্গেও তাঁর কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ছিল না বলে দাবি করেন তিনি।

মানিক হোসেনের ভাষ্য, দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে দায়িত্ব পালনকালে তিনি সরকারি বিধিবিধান ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই দায়িত্ব পালন করেছেন। সাবেক রেলমন্ত্রী সুজনের কোনো সুপারিশ, প্রভাব বা হস্তক্ষেপে তাঁর ওই পদায়ন হয়নি। বর্তমান কলেজ পরিদর্শক পদে পদায়নও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হয়েছে বলে দাবি তাঁর।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে তাঁর বিরুদ্ধে বোর্ডে প্রভাব বিস্তার, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং আট বছরে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। এ বিষয়ে মানিক হোসেন এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও প্রমাণবিহীন বলে দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য, এসব গুরুতর অভিযোগের পক্ষে প্রতিবেদনে কোনো নির্ভরযোগ্য দলিল, সুনির্দিষ্ট তথ্য বা যাচাইযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।

তিনি আরও দাবি করেন, দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে তাঁর যোগদান ও বিদায়ের সময় পরিবেশ ছিল স্বাভাবিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ। ২০২৪ সালের ১২ মার্চ তিনি সম্মানজনক পরিবেশে বোর্ড থেকে বিদায় নেন। তাঁর দাবি, দীর্ঘ দায়িত্ব পালনের সময় কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সহকর্মীদের সঙ্গে তাঁর পেশাগত সম্পর্ক ছিল সৌহার্দ্যপূর্ণ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার।

বর্তমান পদায়ন নিয়ে বিশেষ কোনো সুপারিশ ছিল কি না এমন প্রশ্নের জবাবে অবশ্য মানিক হোসেন বিশেষ সুপারিশ থাকার কথা স্বীকার করেছিলেন বলে মূল প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে কার সুপারিশে পদায়ন হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

অন্যদিকে, বিসিএস জেনারেল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যসচিব ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক অধ্যাপক ড. মো. মাসুদ রানা খান মূল প্রতিবেদনে বলেছেন, বিগত সরকারের সময়ে সুবিধাভোগী কোনো কর্মকর্তার পুনরায় একই শিক্ষা বোর্ডে গুরুত্বপূর্ণ বা লাভজনক পদে পদায়ন কীভাবে হলো, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তিনি বিষয়টি তদন্তের আশ্বাস দেন।

মানিক হোসেন তাঁর লিখিত প্রতিবাদে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁর সম্পর্কে প্রকাশিত তথ্য পুনরায় যাচাই এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনী প্রকাশের অনুরোধ জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, প্রকাশিত প্রতিবেদনের কারণে তাঁর পেশাগত সুনাম ও সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে।

দৈনিক বাংলাদেশ সংবাদ

শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬


‘রেলমন্ত্রীর ভাই’ পরিচয়টি মিথ্যা, দাবি শিক্ষা কর্মকর্তার

প্রকাশের তারিখ : ০২ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

‘৮ বছর দিনাজপুর বোর্ডে থাকা আওয়ামী লীগের রেলমন্ত্রী সুজনের ভাই এবার বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক’ শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনকে ‘মিথ্যা, অসত্য, বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন’ দাবি করেছেন দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের নবনিযুক্ত কলেজ পরিদর্শক মো. মানিক হোসেন। তাঁর দাবি, সাবেক রেলমন্ত্রী ও সাবেক সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলাম সুজনের সঙ্গে তাঁর কোনো পারিবারিক বা আত্মীয়তার সম্পর্ক নেই। এমনকি তাঁর শিক্ষা জীবনের কোনো পর্যায়েও ছাত্রলীগের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা ছিল না।

গত ২৩ সেপ্টেম্বর ‘শিক্ষা সংবাদ ডটকম’-এ প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে মানিক হোসেনকে নূরুল ইসলাম সুজনের আপন চাচাতো ভাই এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, সুজনের সুপারিশে মানিক হোসেন টানা আট বছর দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক পদে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং এবার তিনি বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক পদে পদায়ন পেয়েছেন।

তবে মানিক হোসেন লিখিত প্রতিবাদে এসব তথ্য অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, নূরুল ইসলাম সুজনের সঙ্গে তাঁর কোনো পারিবারিক সম্পর্ক নেই। একই অঞ্চলে বাড়ি হওয়ার কারণে সামাজিকভাবে পরিচয় থাকলেও সেটিকে পারিবারিক আত্মীয়তার সম্পর্ক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। ছাত্রলীগের সঙ্গেও তাঁর কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ছিল না বলে দাবি করেন তিনি।

মানিক হোসেনের ভাষ্য, দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে দায়িত্ব পালনকালে তিনি সরকারি বিধিবিধান ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই দায়িত্ব পালন করেছেন। সাবেক রেলমন্ত্রী সুজনের কোনো সুপারিশ, প্রভাব বা হস্তক্ষেপে তাঁর ওই পদায়ন হয়নি। বর্তমান কলেজ পরিদর্শক পদে পদায়নও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হয়েছে বলে দাবি তাঁর।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে তাঁর বিরুদ্ধে বোর্ডে প্রভাব বিস্তার, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং আট বছরে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। এ বিষয়ে মানিক হোসেন এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও প্রমাণবিহীন বলে দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য, এসব গুরুতর অভিযোগের পক্ষে প্রতিবেদনে কোনো নির্ভরযোগ্য দলিল, সুনির্দিষ্ট তথ্য বা যাচাইযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।

তিনি আরও দাবি করেন, দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে তাঁর যোগদান ও বিদায়ের সময় পরিবেশ ছিল স্বাভাবিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ। ২০২৪ সালের ১২ মার্চ তিনি সম্মানজনক পরিবেশে বোর্ড থেকে বিদায় নেন। তাঁর দাবি, দীর্ঘ দায়িত্ব পালনের সময় কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সহকর্মীদের সঙ্গে তাঁর পেশাগত সম্পর্ক ছিল সৌহার্দ্যপূর্ণ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার।

বর্তমান পদায়ন নিয়ে বিশেষ কোনো সুপারিশ ছিল কি না এমন প্রশ্নের জবাবে অবশ্য মানিক হোসেন বিশেষ সুপারিশ থাকার কথা স্বীকার করেছিলেন বলে মূল প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে কার সুপারিশে পদায়ন হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

অন্যদিকে, বিসিএস জেনারেল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যসচিব ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক অধ্যাপক ড. মো. মাসুদ রানা খান মূল প্রতিবেদনে বলেছেন, বিগত সরকারের সময়ে সুবিধাভোগী কোনো কর্মকর্তার পুনরায় একই শিক্ষা বোর্ডে গুরুত্বপূর্ণ বা লাভজনক পদে পদায়ন কীভাবে হলো, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তিনি বিষয়টি তদন্তের আশ্বাস দেন।

মানিক হোসেন তাঁর লিখিত প্রতিবাদে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁর সম্পর্কে প্রকাশিত তথ্য পুনরায় যাচাই এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনী প্রকাশের অনুরোধ জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, প্রকাশিত প্রতিবেদনের কারণে তাঁর পেশাগত সুনাম ও সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে।


দৈনিক বাংলাদেশ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: হৃদয় খান বাদশাহ্
বার্তা সম্পাদক: মোহাম্মদ তারেক রহমান
কপিরাইটস © সর্বস্বত্ব সত্বাধিকার সংরক্ষিত এই সাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি। Crafted with by ❤️ The Daily Bangladesh Sangbad 2026
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক বাংলাদেশ সংবাদ
‘রেলমন্ত্রীর ভাই’ পরিচয়টি মিথ্যা, দাবি শিক্ষা কর্মকর্তার
0:00 0:00
1.0x
সর্বশেষ